এতে করে পণ্যটির মজুদ নেমেছে ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি সামনের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে তেলের দাম আরো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
মজুদ হ্রাসে নতুন রেকর্ড
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলে অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় ২০ কোটি ব্যারেল কমেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৬৬ লাখ ব্যারেল করে মজুদ কমেছে। সাধারণত এক মাসে তেলের মজুদ কয়েক লাখ ব্যারেল এদিক-সেদিক হয়। কিন্তু এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ মজুদ কমে যাওয়াকে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসঅ্যান্ডপির অপরিশোধিত তেল গবেষণা বিভাগের প্রধান জিম বার্কহার্ড বলেন, ‘এটি একটি বিশাল পরিবর্তন, যা সাধারণ সীমার অনেক বাইরে। এমন ধস আগে দেখা যায়নি।’
যুদ্ধের প্রভাব ও সরবরাহ সংকট
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজার প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল হারিয়েছে। যদিও উচ্চমূল্যের কারণে তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কমেছে, কিন্তু সরবরাহের ঘাটতি তার চেয়েও অনেক বেশি।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। এছাড়া হামলায় অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের মজুদ একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে সতর্ক করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, সে ‘বিপজ্জনক পর্যায়’ বা টিপিং পয়েন্ট আসতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি।
আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুদ
গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ এখন গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত তেলের যে মজুদ আছে, তা দিয়ে বড়জোর ৪৫ দিন চলা সম্ভব। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকায় ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
উত্তর ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুদ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের মজুদ গ্রীষ্মের আগেই রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার পথে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের দাম প্রায় ৪ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছালেও সেখানকার চালকরা এখনো তেলের ব্যবহার খুব একটা কমাননি। মরগান স্ট্যানলির মতে, বিশ্বে প্রতি ১১ ব্যারেল তেলের মধ্যে এক ব্যারেল ব্যবহার করেন মার্কিন গাড়িচালকরা। আগস্টের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ এতটাই কমে যেতে পারে যে তা দিয়ে বড়জোর এক সপ্তাহ চলা যাবে।
অবশ্য গতকাল বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় ও নতুন করে বড় কোনো হামলার খবর না আসায় দামে এ সাময়িক পতন দেখা গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মেঘ কাটেনি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ও বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকলে তা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ সংকট মোকাবেলায় দেশগুলোর জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প জ্বালানি ও মিতব্যয়িতার পথে হাঁটা ছাড়া আর উপায় নেই।